আসসালামু আলাইকুম।
আমি ইস্রাফিল। আজ আপনাদের সঙ্গে আমার ইংরেজি শেখা ও শেখানোর যাত্রার কিছু কথা শেয়ার করতে চাই। এই গল্প শুধু একজন ইংরেজি শিক্ষকের হয়ে ওঠার গল্প নয়; এটি নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলার গল্প।
আমার ইংরেজি শেখার যাত্রাটা খুব সহজ ছিল না। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা সচ্ছল ছিল না। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় থেকেই টিউশন ফি জোগাড় করা আমাদের পরিবারের জন্য কঠিন ছিল। তাই নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নেওয়ার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি শুরু করি।
সেই সময় থেকেই আমার মনে একটি স্বপ্ন ছিল—একদিন আমি ইংরেজি শিক্ষক হবো।
কিন্তু আমার স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার একটা পার্থক্য ছিল। অনার্সে ভর্তি হওয়ার সময় ভেবেছিলাম ইংরেজি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ হয়নি। তখন আমার মনে হতো, ইংরেজিতে মেজর না থাকলে হয়তো ইংরেজি শিক্ষক হওয়া সম্ভব নয়। তার ওপর নিজের ইংরেজি নিয়েও আমি খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না।
তবুও জীবন আমাকে একটা বাস্তব শিক্ষা দিয়েছিল—নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে আমাকে টিউশনি করতে হবে, আর টিউশনি করতে হলে ইংরেজি শেখার প্রয়োজন আছে।
সেখান থেকেই ইংরেজি শেখার প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।
স্বপ্নটা ছেড়ে দিইনি
গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইংরেজি শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নটা আবার নতুন করে আমাকে নাড়া দেয়। সেই সময় নিজের একাডেমিক অবস্থার কারণে কিছু জটিলতার মুখোমুখিও হতে হয়েছিল। অনার্সের সার্টিফিকেটসংক্রান্ত বিষয়টি প্রত্যাশামতো এগোয়নি, যা আমাকে মানসিকভাবে বেশ হতাশ করেছিল।
কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না—স্বপ্ন পূরণের জন্য আমাকে নিজেকেও প্রস্তুত করতে হবে।
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ইংরেজি শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাব। এমন একটি জায়গা খুঁজতে শুরু করলাম, যেখানে কাজ করার পাশাপাশি নিজের শেখার সুযোগও থাকবে।
প্রথম অভিজ্ঞতা, প্রথম হতাশা
২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর আমি English Therapy-তে একজন ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে যুক্ত হই। নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও মাত্র তিন-চার দিনের মাথায় হতাশ হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়েই প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিই।
পরবর্তী সময়ে বুঝতে পেরেছিলাম, সিদ্ধান্তটি হয়তো আরও ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত ছিল। মনে হয়েছিল, হয়তো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আমি নিজের হাতেই হারিয়ে ফেলেছি।
তবে সেই অভিজ্ঞতা আমাকে থামিয়ে দেয়নি। বরং নিজের ভুল থেকে শেখার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।
যশোরে থাকা এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁর পরামর্শে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি আরেকটি কোচিং সেন্টারে যুক্ত হই। আর সেখান থেকেই আমার শিক্ষকতা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হয়।
শেখাতে গিয়েই শেখার গভীরতা বুঝেছি
সেখানে আমি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি প্রথম পত্র পড়ানোর সুযোগ পাই। ব্যাচে পড়ানোর অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। তাই শুরুতে কাজটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।
আমি বুঝতে পারছিলাম, শুধু কোনো বিষয় নিজে বুঝতে পারা আর সেটি অন্যকে সহজভাবে বোঝাতে পারা এক বিষয় নয়।
তাই প্রতিদিন ক্লাসের আগে নিজেকে প্রস্তুত করতাম। Vocabulary, Grammar এবং Teaching Techniques নিয়ে সময় দিতাম। কীভাবে একটি বিষয় সহজভাবে বোঝানো যায়, কীভাবে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা যায়—এসব বিষয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করতাম।
ধীরে ধীরে আমার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ আমাকে ইংরেজি প্রথম পত্রের পাশাপাশি দ্বিতীয় পত্র পড়ানোর দায়িত্বও দেন।
এই অভিজ্ঞতা আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে—শেখানোর দায়িত্ব মানুষকে নিজের শেখার প্রতিও আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তোলে।
আমি যত বেশি শেখানোর চেষ্টা করেছি, তত বেশি নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা বুঝেছি। আর সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও শেখার প্রয়োজন অনুভব করেছি।
English Therapy-তে ফিরে আসা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া
২০২৩ সালের ১০ জুন আমি আবার English Therapy-তে যোগ দিই। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সচেতনভাবে কাজ করার এবং নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করি। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার শিক্ষকতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই সময়ে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জও সামলাতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নিজেকে আরও অভিজ্ঞ করে তোলার উদ্দেশ্যে পার্টটাইম হিসেবে English Lab-এ যুক্ত হই। বিশেষ কিছু পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকেও সরে আসতে হয়।
শেষ পর্যন্ত এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হই, যেখানে শেখা ও শেখানোর পরিবেশ আমার লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বর্তমানে আমি Believers’ English Academy-এর সঙ্গে যুক্ত আছি।
এই পুরো যাত্রায় আমি উপলব্ধি করেছি, একজন শিক্ষক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার প্রক্রিয়াটি কখনো এক জায়গায় থেমে থাকে না। প্রতিটি নতুন পরিবেশ, প্রতিটি দায়িত্ব এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ থেকে শেখার কিছু না কিছু থাকে।
IELTS: নিজের দক্ষতা যাচাইয়ের আরেকটি অধ্যায়
নিজের ইংরেজি শেখার যাত্রায় আমি IELTS পরীক্ষাও দিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষায় আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী স্কোর আসেনি।
আমি সেই ফলাফল প্রকাশ্যে ঘোষণা করিনি, কারণ আমি এমন কোনো অর্জনের দাবি করতে চাইনি, যা আমার প্রত্যাশা বা লক্ষ্যকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না।
আমার কাছে এই অভিজ্ঞতাটিও শেখার যাত্রার একটি অংশ। কারণ ইংরেজি শেখা, ইংরেজি শেখানো এবং একটি আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করা—এগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও একই বিষয় নয়।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব শুধু নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা নয়; নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝা এবং ক্রমাগত উন্নতির চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আমি এখনো শিখছি, নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি এবং আরও ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের গাইড করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি।
Israfil’s English-এর পেছনের ভাবনা
আমার নিজের যাত্রা আমাকে একটি বিষয় গভীরভাবে বুঝিয়েছে—অনেক শিক্ষার্থীর ইংরেজি শেখার ইচ্ছা থাকে, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে, কীভাবে এগোবে কিংবা নিজের দুর্বলতা কীভাবে কাটিয়ে উঠবে, তা নিয়ে তারা দ্বিধায় থাকে।
বিশেষ করে যারা একেবারে Basic থেকে ইংরেজি শিখতে চায়, তাদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা, ধাপে ধাপে শেখার সুযোগ এবং নিয়মিত অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমি নিজেও এমন একটি যাত্রার মধ্য দিয়ে এসেছি, যেখানে শেখার পাশাপাশি নিজের দক্ষতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বারবার অনুভব করেছি।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই Israfil’s English-এর পেছনে আমার ভাবনা—শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখার পথে বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা দেওয়া, তাদের যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
আমার উদ্দেশ্য শুধু ইংরেজির Grammar বা Vocabulary শেখানো নয়। আমি চাই, শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ব্যবহার করতে শিখুক—নিজের কথা প্রকাশ করতে, পড়াশোনায় এগিয়ে যেতে, কর্মজীবনে যোগাযোগ করতে এবং নতুন সুযোগের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে।
আমি বিশ্বাস করি, ইংরেজি শেখা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি, ডিগ্রি কিংবা পটভূমির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়। সঠিক দিকনির্দেশনা, অনুশীলন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে যে কেউ নিজের অবস্থান থেকে উন্নতির চেষ্টা করতে পারে।
Israfil’s English-এর মাধ্যমে আমি সেই শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, বাস্তবভিত্তিক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে চাই।
আমার বিশ্বাস, আমার অঙ্গীকার
আজ আমি নিজেকে এমন একজন শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যিনি শুধু শেখাবেন না, নিজেও শিখবেন; শুধু দিকনির্দেশনা দেবেন না, শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যাগুলো বোঝারও চেষ্টা করবেন।
কারণ আমার নিজের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, শেখার পথে সবকিছু পরিকল্পনামতো হয় না। কখনো হতাশা আসে, কখনো ভুল সিদ্ধান্ত হয়, কখনো প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। কিন্তু সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মানসিকতা থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
আমার ইংরেজি শেখার যাত্রা এখনো শেষ হয়নি। শিক্ষক হিসেবেও নিজেকে আরও উন্নত করার অনেক কিছু বাকি আছে।
আমি চাই, আমার এই শেখার অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষকতা থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্যদের ইংরেজি শেখার যাত্রায় কাজে আসুক।
Israfil’s English আমার কাছে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নয়; এটি শেখা, শেখানো, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং প্রতিনিয়ত উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি স্বপ্ন।
আমাদের লক্ষ্য—ইংরেজিকে এমন একটি দক্ষতায় পরিণত করতে সাহায্য করা, যা মানুষের শিক্ষা, কর্মজীবন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।
আমি বিশ্বাস করি, একজন ভালো শিক্ষক হওয়ার আগে একজন আজীবন শিক্ষার্থী হওয়া জরুরি। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি আজও শিখছি, শেখাচ্ছি এবং সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।
আপনার সময় ও মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ
আমার এই দীর্ঘ গল্পটি সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
আপনার ইংরেজি শেখার যাত্রাটিও সুন্দর হোক। ধীরে ধীরে, নিজের গতিতে, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আপনিও এগিয়ে যান আপনার লক্ষ্যের দিকে।
Israfil’s English
Transforming lives through learning & mentorship.